জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট পরিচিতি

 জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট (জাগই - সাবেক জাতীয় সম্প্রচার একাডেমি) ইউএনডিপি, ইউনেস্কো এবং আইটিইউ-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রকল্পরূপে ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে কার্যক্রম শুরু করে। এ’ ইনস্টিটিউট (জাগই) তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশে তথ্য সার্ভিস ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে একমাত্র সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। এ’ ইনস্টিটিউটে বেতার-টেলিভিশনের অনুষ্ঠান ও প্রকৌশল বিষয়সমূহ,তথ্য সার্ভিসের পেশাগত প্রশিক্ষণ, চলচ্চিত্র, রিপোর্টিং এবং তথ্য ও উন্নয়ন যোগাযোগের ওপর প্রশিক্ষণ পাঠ্যধারা পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়া, বেসরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি যাঁরা ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা এখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারেন। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, তথ্য অধিদফতর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরে কর্মরত সম্প্রচার ও যোগাযোগ কর্মীদের দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানদানের মাধ্যমে সম্প্রচার, চলচ্চিত্র ও গণযোগাযোগ কর্মকান্ডের উন্নতি সাধন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মূল উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক ও চলচ্চিত্র মাধ্যমের সময়োপযোগী উন্নয়ন এ ইনস্টিটিউটের মূল দায়িত্ব। উন্নয়ন যোগাযোগকে আরও গতিশীল ও বস্ত্তুনিষ্ঠ করে তোলা এর অন্যতম কর্তব্য। সম্প্রতি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিভি ও বেতার চ্যানেলও  ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে, এর প্রেক্ষিত ও পরিধির গুণগত ও পরিমাণগত তাৎপর্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

কার্যক্রম :

 ক) অনুষ্ঠান, প্রকৌশল ও সংবাদ কর্মীদের চাকুরিকালীন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার সম্প্রচার কার্যক্রমের সার্বিক  উন্নয়ন;

খ)  উন্নয়ন সম্প্রচার, উন্নয়ন যোগাযোগ, বেতার ও টেলিভিশনসহ চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ প্রদান;

গ)  ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম এবং চলচ্চিত্র বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং উপাত্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা;

ঘ)  বেতার, টেলিভিশন এবং গণযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরামর্শ, উপদেশ এবং সেবা দান;

ঙ)  উন্নয়নসম্প্রচার ও যোগাযোগের সাথে সম্পৃক্ত আলোচনা সভা, কর্মশালা এবং উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের আয়োজন করা;

চ)  ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে যৌথভাবে উন্নয়ন-যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পাঠ্যধারার আয়োজন ও অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেয়া;

ছ)  সমধর্মী  কার্যক্রম  পরিচালনায়  অন্যান্য সংস্থার (জাতীয় ও আমত্মর্জাতিক) সাথে সম্পর্ক এবং সমন্বয় সাধন;

জ)   ভিডিও এবং  অডিও টেপ এবং নির্দেশিকা সামগ্রীসমৃদ্ধ তথ্য ব্যাংক স্থাপন করা;

ঝ) বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং জনসংযোগের মাধ্যমে উন্নয়ন যোগাযোগ ও উন্নয়ন-সম্প্রচারের  সাথে সংশিস্নষ্ট যে কোন পরামর্শ ও সেবা প্রদান;

ঞ) বাংলাদেশে ইলেক্ট্রনিক ও চলচ্চিত্র মাধ্যমের আদর্শ মান উন্নয়নের সহায়ক অন্যান্য দায়িত্ব পালন;

ট)  দর্শক-শ্রোতা গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা; এবং

ঠ) বেসরকারি সংগঠন, ব্যক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান।

কর্মপরিধি :

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে বেতার ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, পরিবেশনা, নির্মাণ ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন সত্মর- বিশিষ্ট পাঠ্যধারার ব্যবস্থা রয়েছে।  গণযোগাযোগ অধিদফতর, তথ্য অধিদপ্তর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশিস্নষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান এর অন্যতম দায়িত্ব। এই পাঠ্যধারাসমূহ  তিন পর্যায়ের  কর্মীদের প্রশিক্ষণ চাহিদা অনুযায়ী বিন্যস্ত; যাঁরা-

১.      তত্ত্বাবধায়কের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন (স্তর-১)

২.     তত্ত্বাবধান ব্যতীত দায়িত্ব পালন করেন (স্তর-২)

৩.     নিজেরাই তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কাজ করেন (স্তর-৩)

প্রশিক্ষণ কর্মসূচি :

বেতার ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান, বেতার ও টেলিভিশন প্রকৌশল,টেলিভিশনের জন্য ইএনজি/ইএফপি, উন্নয়ন সম্প্রচার, বেতার ও টেলিভিশন মাধ্যম শিক্ষা সম্প্রচার, বেতার ও টেলিভিশনের জন্য অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, বেতার ও টেলিভিশন নাটক, বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্যচিত্র, বেতার ও টেলিভিশনের জন্য পান্ডুলিপি লিখন, বেতার ও টেলিভিশনে জনসংখ্যা যোগাযোগ অনুষ্ঠান, টেলিভিশন শিল্প নির্দেশনা ও গ্রাফিক্স, ক্যামেরা চালনা ও আলোকসম্পাত, ডিজিটাল ফটো সাংবাদিকতা, তথ্য ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা, প্রমিত বাংলা উচ্চারণ ও বানান, মাঠ সম্প্রচার, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, গণযোগাযোগ ও আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, চলচ্চিত্র (পান্ডুলিপি, পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ ও শব্দগ্রহণ), সম্প্রচার ব্যবস্থাপনা, দশর্ক-শ্রোতা গবেষণা ও অনুষ্ঠান মূল্যায়ন, নন-লিনিয়ার এডিটিং, ভিডিও অনুষ্ঠান প্রযোজনা কৌশল, ডিজিটাল পদ্ধতি, গ্রামীণ মহিলাদের জন্য সম্প্রচার, সংবাদ প্রতিবেদন লিখন, পঠন ও সম্পাদনা, সাক্ষাৎকার গ্রহণ কৌশল, প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন যোগাযোগ, প্রশিক্ষণের ফলাফল যাচাই ও মূল্যায়ন, ইংরেজি ভাষা: কথন, লিখন রীতি ও পেশাগত ব্যবহার ও অপব্যবহার।

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট-এর নিজস্ব প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম ছাড়াও এআইবিডি, এসকাপ, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, আর টি আই, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় অথবা যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করে থাকে।

গবেষণা কার্যক্রম :

দর্শক-শ্রোতার মতামতের ভিত্তিতে সম্প্রচার যোগাযোগ  সংক্রান্ত  প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গবেষণা সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

 ইনস্টিটিউটের স্টাফ :

ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন মহাপরিচালক। বর্তমানে প্রায় বিশজন অভিজ্ঞ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক অন্যান্য স্টাফের সহায়তায় প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত। বাইরে থেকে সম্প্রচার যোগাযোগ, চলচ্চিত্র ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিবর্গও প্রশিক্ষণে অতিথিবক্তা বা সম্পদ ব্যক্তিরূপে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরি :

ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণার্থী এবং সম্পদব্যক্তিদের চাহিদার প্রয়োজনে একটি লাইব্রেরি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে প্রয়োজনীয় বইপত্র প্রশিক্ষণার্থীরা তাঁদের অধ্যয়নের জন্য ব্যবহার করে থাকেন। লাইব্রেরির বই এর সংখ্যা প্রায় পাাঁচ হাজার পাঁচশত।

ডরমিটরি :

ইনস্টিটিউটে চারতলাবিশিষ্ট একটি ডরমিটরি রয়েছে। ৩৯টি কক্ষ আছে এর মধ্যে ৭টি কক্ষ শীততপ নিয়ন্ত্রিত। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ চলাকালীন এখানে অবস্থান করার সুযোগ পান।

ক্যাফেটেরিয়া :

ডরমিটরিতে একটি ক্যাফেটরিয়া রয়েছে। এখানে সম্পদব্যক্তি, অনুষদবর্গ এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ীমূল্যে খাবার ব্যবস্থা রয়েছে।

সুযোগ-সুবিধা :

 আধুনিক ধারণযন্ত্র ও সম্পাদনা সুবিধাসহ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ টেলিভিশন স্টুডিও, দুইটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বেতার স্টুডিও, আধুনিক অডিও-ভিজ্যুয়াল সুবিধাসহ আটটি শ্রেণীকক্ষ, ইএনজি/ ইএফপি যন্ত্রসামগ্রী, ইলেক্ট্রনিকস এবং ডিজিটাল পরীক্ষণের জন্য কারিগরি গবেষণাগার, লেজার ও ইমেজ মুদ্রণের সুবিধাসহ মাইক্রো-কম্পিউটার, পাঠাগার, ডরমিটরি, ১৬ মি. মি. মুভি ক্যামেরা, ১৬  ও ৩৫ মি. মি. ফিল্ম প্রজেক্টর, ১৬ মি: মি: ফিল্ম সম্পাদনা টেবিল, স্লাইড প্রজেক্টর , ওএইচপি, ফটোকপিয়ার মাল্টিডিয়া প্রজেক্টর, হাইস্পীড ইন্টারনেট কানেকশনসহ ২১ (একুশ) টি কম্পিউটার সমৃদ্ধ একটি কম্পিউটার ল্যাব; নন লিনিয়ার অডিও, ভিডিও এডিটিং প্যানেল, ২০ MBps ব্যান্ডউইথসহ সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস Wi-Fi জোন, ৫ (পাঁচ) টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ ইত্যাদি।

অডিটোরিয়াম:

“জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের বর্তমান ভবনের সম্প্রসারণ এবং অডিটোরিয়াম নির্মাণ শীর্ষক” কর্মসূচির আওতায় এ ইনস্টিটিউটের সম্মূখ ভাগে রাজস্ব বাজেটে জুলাই ২০১০ থেকে জুন ২০১৫ মেয়াদে ১২৫০.৫৭  লক্ষ টাকা ব্যয়ে  “শেখ রাসেল  অডিটোরিয়াম” নির্মাণ করা হয়েছে।

 

 অডিটোরিয়ামের সুবিধাদি নিম্নরূপ :

 

        ক)  ১৯২ টি দর্শক আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম হল, হল সংলগ্ন গ্রীন রুম (পুরুষ ও মহিলা)।

        খ)  প্যাকেজ টাইপ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও  কক্ষ শীতাতপ  নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ।

        গ)  যন্ত্রপাতিসহ শব্দ ও আলোক ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষ ।

        ঘ)  অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা।

        ঙ)  ক্যাফেটেরিয়া, সভাকক্ষ, ভিআইপি লাউঞ্জ।

        চ)  অফিস কক্ষ ২টি।

        ছ)  রিসিপশন কাউন্টার  ১টি।

        জ)  বেসমেন্টে ২১টি কার পার্কিং এর স্থান।

        ঝ)  ইন্টারকম সিস্টেম।

 

অডিটোরিয়াম ভাড়া সরকার অনুমোদিত হারে প্রতি আট ঘন্টা ২০,০০০.০০ (বিশ হাজার) টাকা। সরকারের  নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় অডিটোরিয়ামটি ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহার করা যায়।

যোগাযোগ :

মহাপরিচালক

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট

১২৫/এ, দারুস সালাম, এ ডব্লিউ চৌধুরী রোড,  ঢাকা - ১২১৬

পিএবিএক্স - ৫৫০৭৯৪৩৮-৪২, ফ্যাক্স- ৫৫০৭৯৪৪৩

e-mail   : dg@nimc.gov.bd

website : www.nimc.gov.bd


Share with :
Facebook Facebook